---তরুণ বিশ্বাস,কলকাতা-
৫০ হাজার কন্ঠে একসঙ্গে উচ্চারিত হল গীতার শ্লোক। তার সঙ্গে মন্ত্রোচ্চারণ,শঙ্খ ধ্বনি আর ভক্তদের কণ্ঠে হরে কৃষ্ণ’জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি। মঙ্গলবার সকাল থেকে এমনই এক আধ্যাত্মিক আবহের সাক্ষী থাকল অশোকনগরের হরিপুর মাঠ। সর্বভারতীয় সনাতনী ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে ধর্ম প্রসার বিভাগের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত হল ‘৫০ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠ’ ও ‘বিশ্ব কল্যাণ যজ্ঞ’। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্ত ও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অংশ নেন বলে উদ্যোক্তাদের দাবি। গীতা পাঠের পাশাপাশি বিশ্ব শান্তি,সমাজ কল্যাণ ও মানব কল্যাণের উদ্দেশ্যে যজ্ঞের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন পরমপূজ্য কার্তিক মহারাজ ও সোমনাথ মহারাজ। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য সাধুসন্ত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁদের উপস্থিতিতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশা পাশি গীতার জীবন দর্শন, ভারতীয় ঐতিহ্য এবং নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। উদ্যোক্তাদের মতে, গীতা শুধু ধর্মীয় পাঠ নয়,জীবনের প্রতিটি সংকটে কর্তব্য,কর্ম,আত্মসংযম ও নৈতিকতার পথ দেখায়। সেই জীবন দর্শনকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই বৃহৎ পরিসরে এই গীতা পাঠের আয়োজন। তাঁদের দাবি, ঘরে ঘরে গীতাপাঠের অভ্যাস তৈরি হলে পরিবার ও সমাজে নৈতিক মূল্যবোধের প্রসার ঘটবে। আয়োজকদের পক্ষথেকে আইনজীবী পূজা দেবনাথ ও রাজেশ সাহা বলেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একত্রিত করে সনাতনী সংস্কৃতি ও গীতার জীবন দর্শনের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের যোগ সূত্র তৈরি করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।”তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, কর্তব্যবোধ ও মানবিকতার চর্চা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এদিনের মঞ্চ থেকেই একাধিক দাবি সামনে আনেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের বক্তব্য,তাঁরা হিন্দু রাষ্ট্রের পক্ষে এবং শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাকে অবিলম্বে পাঠ্য পুস্তকের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছেন। তাঁদের যুক্তি,গীতার নৈতিক ও জীবনমুখী শিক্ষার সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের পরিচয় ঘটলে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার প্রসার ঘটতে পারে। অনুষ্ঠান ঘিরে হরিপুর মাঠে ছিল উৎসবের আবহ। গীতার শ্লোকপাঠের পাশা পাশি ভক্তদের কণ্ঠে ধর্মীয় ধ্বনি এবং যজ্ঞের মন্ত্রোচ্চারণে মুখর হয়ে ওঠে গোটা প্রাঙ্গণ। উদ্যোক্তাদের দাবি,এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় অনুশীলনের পাশাপাশি সনাতনী সংস্কৃতি,ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহৎ এই কর্মসূচিকে ঘিরে অশোক নগরে এক দিকে যেমন দেখা গেল ধর্মীয় আবেগের প্রকাশ তেমনই মঞ্চ থেকে উঠে এল শিক্ষা ও সংস্কৃতি নিয়ে উদ্যোক্তাদের দাবি। ৫০ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠ তাই শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়,উদ্যোক্তা দের ভাষায় সনাতনী সংস্কৃতি ও জীবন দর্শনের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এক বৃহৎ প্রচেষ্টা।