অরুন নাথ,পটিয়া(চট্টগ্রাম):
তৈয়ব-বিলকিছ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ও রশিদ আহমদ-হাসান বানু ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান-২০২৬ গত ২৫ জুলাই (শনিবার) মন্সা স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে মন্সা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ জনাব নুরুল আলম ফারুকী-এর সভাপতিত্বে এবং বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক রূপক শীল-এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্সা স্কুল এন্ড কলেজের আজীবন দাতা সদস্য, তৈয়ব-বিলকিছ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট এর পরিচালক ও রশিদ আহমদ-হাসান বানু ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু মোহাম্মদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম, সমাজসেবক ফরিদুল আলম, হারুনুর রশিদ, মো. নুরুর রশিদ সিদ্দিকী, অভিভাবক সদস্য রোকেয়া আক্তার, আবুল হোসেন দুলাল, অধ্যাপক মো. রফিক, আশফাক উদ্দিন মিটু, সাবেক ইউপি সদস্য মো. সিরাজুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য রাখেন মো. একরাম, মো. সোলাইমান ও মো. খায়রুল বশর প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ নুরুল আলম ফারুকী শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে তৈয়ব-বিলকিছ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ও রশিদ আহমদ-হাসান বানু ফাউন্ডেশনের মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের আজীবন দাতা সদস্য ও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু মোহাম্মদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাঁর মানবিক ও দূরদর্শী উদ্যোগ এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথকে আরও সুগম করবে।
প্রধান অতিথি আলহাজ্ব আবু মোহাম্মদ বক্তব্যে বলেন,শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি জানান,প্রতিবছর মেধা যাচাই পরীক্ষার মাধ্যমে ৩০ জন শিক্ষার্থী এবং মন্সা গ্রামের ১২ সমাজের প্রতিনিধিদের সুপারিশে আরও ৬০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তির আওতায় আনা হবে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের মাসিক বেতন, সেশন ফি ও বিশেষ ক্লাসের ফি ফাউন্ডেশন বহন করবে। পাশাপাশি সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর, জ্যামিতি বক্স এবং প্রতি মাসে একটি ১০০ পাতার খাতা ও দুটি কলম প্রদান করা হবে।
তিনি আরও ঘোষণা করেন, আগামী শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া মন্সা স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি-এর ৫০ শতাংশ ফাউন্ডেশন বহন করবে। এসএসসি পরীক্ষায় A+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে। এছাড়া তাদের বিনামূল্যে বই ও শিক্ষা-সামগ্রী প্রদান, সরকারি বৃত্তি প্রাপ্তিতে সহযোগিতা এবং তৈয়ব-বিলকিছ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, মন্সা স্কুল এন্ড কলেজ থেকে অধ্যয়ন শেষে কোনো শিক্ষার্থী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি মেডিকেল কলেজ, সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউট কিংবা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ অর্জন করলে তার উচ্চশিক্ষার ব্যয়ও ফাউন্ডেশন বহন করবে।
তিনি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরে জানান, ২০২৭ সাল থেকে বৃত্তি কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করা হবে। ওই বছর মন্সা গ্রামের ১২০ জন এবং পার্শ্ববর্তী বিনিনিহরা গ্রামের আরও ৫০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তির আওতায় আনা হবে। তিনি এ উদ্যোগ সফল করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে মন্সা গ্রামের ১২ সমাজের ৩৬ জন গণ্যমান্য প্রতিনিধি, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক, ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার প্রসারে এ ধরনের বৃত্তি কর্মসূচি মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করবে এবং একটি শিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।