ন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভায় বুক সমান পানি ডিঙিয়ে যে তরুণরা বিপন্ন মানুষের দ্বারে দ্বারে রান্না করা খাবার পৌঁছে দিয়েছিল, এবার সেই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'দোহাজারী ব্লাড ব্যাংক' দাঁড়িয়েছে বন্যার্তদের অবোলা গবাদিপশুর পাশে।
বন্যা কিংবা বন্যা-পরবর্তী সময়ে সাধারণত ত্রাণসামগ্রী বিতরণের মূল ফোকাস থাকে মানুষের দিকে। ফলে গবাদিপশুর তীব্র খাদ্য সংকটের বিষয়টি আড়ালেই থেকে যায়। তবে ব্যতিক্রমী মানবিকতা নিয়ে এই সংকটের দিকে নজর দিয়েছে দোহাজারী ব্লাড ব্যাংকের একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবী তরুণ। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই বন্যাকবলিত এলাকার গবাদিপশুর মালিকদের ঘরে ঘরে গিয়ে তারা পৌঁছে দিয়েছেন পশুর উন্নতমানের (ভুষি মিক্স) খাদ্যসামগ্রী।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দোহাজারী পৌরসভার বিভিন্ন প্লাবিত এলাকায় এই গোখাদ্য বিতরণ করা হয়। মানবিক এই কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির এডমিন পরিষদ সদস্য মাঈনুদ্দিন হাসান, রাশেদুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম মোস্তফা, কার্যকরী পরিষদ সদস্য আশরাফুল ইসলাম হাবীব, সহ-কার্যকরী পরিষদ সদস্য তারেক হোসেন প্রমূখ।
সংগঠনের এডমিন মাঈনুদ্দিন হাসান বলেন, "প্লাবিত এলাকায় অনেক পরিবারের সংগ্রহে থাকা খড়ের গাদা পানিতে পঁচে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে, শঙ্খ নদীর প্রবল স্রোতের সাথে আসা বালুর মোটা আস্তরণে ঢাকা পড়ে বিস্তীর্ণ মাঠের ঘাসও পঁচে গেছে। বর্তমানে বাজারেও গোখাদ্যের দাম আকাশচুম্বী। ফলে অনেক দরিদ্র পশুপালক তাদের উপার্জনের প্রধান সম্বল গাভী বা বলদগুলোকে ঠিকমতো খাওয়াতে পারছিলেন না। এই চরম সংকটে অবোলা প্রাণীদের ক্ষুধা মেটাতে সংগঠনের এডমিন, কার্যকরী ও সহ-কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়নে এই বিশেষ ত্রাণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।""
বন্যার্ত মানুষ যেখানে নিজেদের টিকিয়ে রাখতেই হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে গৃহপালিত পশুর মুখে খাবার তুলে দেওয়ার এই মানবিক উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। দোহাজারী ব্লাড ব্যাংকের তরুণদের এই উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করলো- প্রকৃত মানবিকতা কেবল মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তা ছড়িয়ে পড়ে সব সৃষ্টির মাঝে।