উৎফল বড়ুয়া, সিলেট
সিলেট মহানগরে কিশোর গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে Sylhet Metropolitan Police (এসএমপি)। মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় কিশোর গ্যাংগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এসএমপি কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে অপ্রয়োজনে কোনো কিশোরকে রাস্তা-ঘাটে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলে তাদের আটক করা হবে। পাশাপাশি সিলেট মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় কিশোর গ্যাংগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, “আমরা সন্ধ্যার পর থেকে কোনো কিশোরকে অযথা রাস্তা-ঘাটে দেখতে চাই না। যদি কাউকে অকারণে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়, তাহলে তাকে আটক করা হবে। ইতোমধ্যে আমরা বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের তথ্য সংগ্রহ করছি এবং তাদের তালিকা প্রস্তুত করছি।”
পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী আরও জানান, সিলেট মহানগরের প্রতিটি কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের তদবির বা সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না। একই সঙ্গে পরবর্তীতে কোনো ধরনের মানবিক বিবেচনার সুযোগও রাখা হবে না। যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, “সিলেটের প্রত্যেকটি কিশোর গ্যাংকে আমরা ধরব। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের তদবির কিংবা প্রভাব খাটানোর সুযোগ থাকবে না। আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এসএমপি কমিশনার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পুলিশের চলমান অভিযান ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সিলেট মহানগরকে কিশোর গ্যাংমুক্ত করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন স্থান, পার্ক, বাজার এবং জনবহুল এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে যাতে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
এ বিষয়ে নগরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেছেন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং দমনে শুধু পুলিশের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টাও প্রয়োজন। অভিভাবকদের প্রতি তিনি বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধু নির্বাচন এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমের প্রতি নজর রাখতে হবে। সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলে অনেক অপরাধই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সময় মারামারি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির মতো অভিযোগ উঠেছে। ফলে পুলিশ প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানকে নগরবাসীর অনেকেই ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, পুলিশের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সিলেট মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে এবং তরুণ সমাজ অপরাধের পথ থেকে সরে এসে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।