মো আবদুল করিম সোহাগ
হাইপার-লোকাল ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ইছামতি ফুড স্থানীয় রেস্টুরেন্ট ও হোম-কুকদের খাবার দ্রুত গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে, নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগও তৈরি করছে।
দেশের দ্রুত পরিবর্তনশীল নগর জীবনে খাবার সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সহজ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নতুন উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এসেছে Ichamoti Food। এটি দেশের উদীয়মান শিল্পগোষ্ঠী Ichamoti Group of Industries–এর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান, যা স্থানীয় রেস্টুরেন্ট, হোম-কুক এবং গ্রাহকদের মধ্যে একটি কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে কাজ করছে।
বর্তমান সময়ে ব্যস্ত নগর জীবনে মানুষের সময়ের মূল্য অনেক বেড়েছে। অফিস, ব্যবসা, শিক্ষা কিংবা অন্যান্য কাজের চাপের কারণে অনেকেই প্রতিদিন নিজের পছন্দের খাবার সংগ্রহ করা বা রান্না করার সুযোগ পান না। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে প্রযুক্তিনির্ভর ফুড ডেলিভারি সেবা বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাংলাদেশেও এই খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং নতুন নতুন উদ্যোগ যুক্ত হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইছামতি ফুড একটি হাইপার-লোকাল ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে, যার মাধ্যমে স্থানীয় জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট ও ঘরোয়া রান্নার উদ্যোক্তাদের খাবার দ্রুততম সময়ে গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হয়। আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং প্রশিক্ষিত রাইডার টিমের মাধ্যমে একটি নির্ভরযোগ্য ফুড ডেলিভারি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইছামতি ফুডের মাধ্যমে গ্রাহকরা সহজেই তাদের পছন্দের খাবার অর্ডার করতে পারবেন। ওয়েবসাইট বা ফোনের মাধ্যমে অর্ডার দেওয়ার সুবিধা থাকায় খুব সহজেই খাবার নির্বাচন করা সম্ভব। এরপর দক্ষ রাইডার টিম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাবার গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়।
ইছামতি ফুডের সেবার আওতায় রয়েছে স্থানীয় জনপ্রিয় রেস্টুরেন্টের খাবার ডেলিভারি, ঘরোয়া রান্নার খাবার সরবরাহ, কর্পোরেট লাঞ্চ সার্ভিস এবং বিভিন্ন সামাজিক বা প্রাতিষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের জন্য খাবার সরবরাহের বিশেষ ব্যবস্থা। বিশেষ করে যারা ঘরোয়া স্বাদের স্বাস্থ্যকর খাবার পছন্দ করেন, তাদের জন্য হোম-কুকড ফুড সার্ভিস একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনেক দক্ষ গৃহিণী বা ছোট উদ্যোক্তা আছেন যারা ঘরে বসেই মানসম্মত খাবার প্রস্তুত করেন, কিন্তু তাদের সেই খাবার বৃহৎ পরিসরে বাজারজাত করার সুযোগ থাকে না। ইছামতি ফুড সেই ধরনের হোম-কুকদের জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে, যার মাধ্যমে তারা সহজেই তাদের খাবার গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন।
এ বিষয়ে ইছামতি গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ এর প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আরফাত ছিদ্দিকী, বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। ইছামতি ফুডের মাধ্যমে একদিকে যেমন গ্রাহকরা সহজে মানসম্মত ও সুস্বাদু খাবার পাবেন, অন্যদিকে স্থানীয় রেস্টুরেন্ট ও হোম-কুকরা তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ পাবেন। ভবিষ্যতে আমরা এই সেবাকে দেশের বিভিন্ন শহরে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা নিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি ফুড ডেলিভারি সেবা চালু করা নয়; বরং একটি এমন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে স্থানীয় খাদ্য উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য সহজেই বাজারজাত করতে পারবেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, খাবারের গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খাবার সংগ্রহ, প্রস্তুত প্রক্রিয়া, প্যাকেজিং এবং ডেলিভারির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি ও মান নিয়ন্ত্রণের নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। এতে গ্রাহকরা নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার পাওয়ার নিশ্চয়তা পান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর ফুড ডেলিভারি সেবা শুধু শহরের মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করে না; বরং এটি নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রও তৈরি করে। অনেক তরুণ এই খাতে রাইডার, ডেলিভারি কর্মী কিংবা ক্ষুদ্র খাদ্য উদ্যোক্তা হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে ইছামতি ফুড ধীরে ধীরে দেশের একটি বিশ্বস্ত ফুড ডেলিভারি ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারবে। ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন শহরে সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের ফুড সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।