কক্সবাজারের রামুতে রোজাদারদেরকে ইফতারসামগ্রী দিলেন বৌদ্ধ ভিক্ষু কে. শ্রী. জ্যোতিসেন মহাথেরো

প্রকাশিত: ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০২৬

উৎফল বড়ুয়া

​কক্সবাজারের রামু উপজেলা যা দীর্ঘকাল ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য জনপদ হিসেবে পরিচিত। আজ সেখানে আবারও রচিত হলো মানবতার এক উজ্জ্বল উপাখ্যান। “মানুষ মানুষের জন্য, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষকে ভালোবাসা”—এই পরম সত্যকে হৃদয়ে ধারণ করে শ্রদ্ধেয় জ্যােতিসেন মহাথেরো মহানুভবতায় সিক্ত হলেন ১৫০০ জন রোজাদার মুসলিম।

​নিরবচ্ছিন্ন এক যুগের সেবাব্রতকে সামনে রেখে পবিত্র মাহে রমজানের ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ​বুধবার ১১ মার্চ দিনটি বিশেষ হয়ে রইল এক অনন্য দৃষ্টান্তের জন্য। এটি কোনো সাধারণ দান নয়, বরং টানা ১২ বছর ধরে চলে আসা একটি সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ। একজন বৌদ্ধ ধর্মগুরু হয়েও প্রতি বছর পবিত্র রমজান মাসে মুসলিম ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রথাটি তিনি এক যুগে উন্নীত করলেন। নিজের ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য। ​এ বছরও রামু উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য জ্যােতিসেন ভান্তে মহোদয়ের পক্ষ থেকে ছিল ব্যাপক আয়োজন।
১৫০০ জন রোজাদারের জন্য মানসম্মত ইফতার ও খাদ্যসামগ্রী দান করা হয়েছে, যাতে তারা নিশ্চিন্তে রোযা পালন করতে পারেন।
​রামু এলাকার স্থানীয় ৫টি মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে তাঁদের জন্য বিশেষ উপহার ও সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

​আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে নতুন কাপড় কেনার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। “জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক”
​বৌদ্ধ ধর্মের মূল অহিংসা এবং মৈত্রীর বাণীকে কর্মের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন এই জ্যােতিসেন ভিক্ষু। তাঁর এই উদ্যোগ কেবল ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং এটি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক শক্তিশালী বার্তা। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের সেবা করার জন্য কোনো বিশেষ ধর্মের পরিচয়ের প্রয়োজন হয় না; কেবল একটি দয়ালু হৃদয় থাকলেই চলে।
​তিনি প্রতি বছর এই আয়োজন অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত এই ধরায় মানুষ কষ্টে থাকবে, ততক্ষণ এই সেবার হাত প্রসারিত থাকবে।
​রামুর আকাশে-বাতাসে আজ যেন সেই চিরন্তন সুর প্রতিধ্বনিত হচ্ছে—”জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।” মানুষের প্রতি মানুষের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা সমাজ থেকে ঘৃণা ও বিভেদ দূর করে এক শান্তির পৃথিবী গড়তে সাহায্য করবে।