রঘুনাথগঞ্জ রবীন্দ্র ভবন মঞ্চে সংস্কৃতির আলোয় নাট্য উৎসব সম্পন্ন

প্রকাশিত: ২:৩৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২৬

তরুণ বিশ্বাস,কলকাতা-

সংস্কৃতির আলোয় উজ্জ্বল রঘুনাথগঞ্জ — নাট্য উৎসব ২০২৬-এর বর্ণাঢ্য সূচনা রঘুনাথ গঞ্জের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নতুন মাত্রা যোগ করতে বৃহস্পতিবার এক আবেগঘন ও গৌরবময় পরিবেশে শুরু হল রঘুনাথগঞ্জ থিয়েটার গ্রুপ-এর আয়োজিত নাট্য উৎসব ২০২৬। শহরের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রবীন্দ্র ভবন মঞ্চ বিকেল ৫টা থেকেই রঙ, আলো, সুর ও মানুষের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে। উৎসবের সূচনা পর্বেই ছিল এক সুশৃঙ্খল ও মননশীল আয়োজন। আমন্ত্রিত অতিথিদের আন্তরিক অভ্যর্থনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে উত্তরীয়, ফুল ও শুভেচ্ছা স্মারক দিয়ে অতিথিদের বরণ করে নেওয়া হয়—যা অনুষ্ঠানস্থলে এক আন্তরিক ও পারিবারিক আবহ তৈরি করে। এরপর ঐতিহ্য মেনে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে নাট্য উৎসবের শুভ সূচনা ঘোষণা করা হয়। জ্বলে ওঠা সেই প্রদীপ যেন প্রতীক হয়ে ওঠে বাংলা নাট্যচর্চার অবিচল ধারার, সৃজনশীলতার এবং সম্মিলিত সংস্কৃতিচর্চার আলোর। পরবর্তী পর্বে সম্মিলিত কণ্ঠে গাওয়া হয় জাতীয় সংগীত। উপস্থিত সকলেই দাঁড়িয়ে গভীর শ্রদ্ধায় অংশ নেন এই পর্বে, যা অনুষ্ঠানকে এক গাম্ভীর্যপূর্ণ মর্যাদা প্রদান করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনা। শাস্ত্রীয় ও আধুনিক ভাবনার মেলবন্ধনে সাজানো সেই নৃত্য যেন নাট্য উৎসবের মূল চেতনা—সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতার সম্মিলিত প্রকাশ—কে জীবন্ত করে তোলে। দর্শকাসনে বসে থাকা নাট্যপ্রেমী মানুষদের করতালিতে বারবার মুখর হয়ে ওঠে প্রেক্ষাগৃহ আয়োজক দের বক্তব্যে উঠে আসে বাংলা নাট্যচর্চাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার। তাঁরা জানান, এই উৎসব শুধু নাটক মঞ্চস্থ করার আয়োজন নয়—এটি এক সাংস্কৃতিক আন্দোলন, যেখানে শিল্প, সাহিত্য, অভিনয় ও সামাজিক চেতনা একসূত্রে গাঁথা।নাট্য উৎসব ২০২৬-কে ঘিরে রঘুনাথগঞ্জে তৈরি হয়েছে এক উৎসবমুখর আবহ। স্থানীয় শিল্পী, নাট্যকর্মী ও সংস্কৃতি প্রেমীদের অংশগ্রহণে এই আয়োজন হয়ে উঠেছে এক মিলনমেলা—যেখানে মঞ্চ শুধু অভিনয়ের স্থান নয়, বরং ভাবনা, অনুভূতি ও সমাজসচেতনতার প্রকাশভূমি। সংস্কৃতির এই দীপশিখা আগামী দিনগুলিতেও জ্বলে থাকুক—এই প্রত্যাশাতেই শুরু হল নাট্য উৎসব ২০২৬-এর যাত্রা।