
আনোয়ারা ( চট্টগ্রাম ) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হঠাৎ করে হয়ে উঠেছিল যেন এক জনসভাস্থল। হাসপাতালের চিত্রটি ছিল পুরোপুরি ভিন্ন। ডাক্তার, নার্স আর রোগী পাশাপাশি চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের চেয়ে বেশী দেখা যাচ্ছিল বাজনৈতিক নেতাকর্মী আর বিভিন্ন স্লোগান।
আনোয়ারা কর্ণফুলী আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম হাসপাতাল পরিদর্শনে এলে তাঁর সঙ্গে থাকা শত শত নেতা-কর্মীর বিশাল বহরে হাসপাতালটি যেন মুহূর্তেই এক রাজনৈতিক জনসভায় পরিণত হয়। আর এই বহরের ভিড়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হন সাধারণ রোগীরা।
সোমবার বেলা ১২টার দিকে সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম যখন হাসপাতালে প্রবেশ করেন, তখন চারদিকে কেবলই বিশৃঙ্খলা। একটি ভিডিওতে দেখা যায় নেতা-কর্মীদের উপচে পড়া ভিড়ে হাসপাতালের প্রবেশমুখ ও বহির্বিভাগ পুরোপুরি অবরুদ্ধ। অনেকের হাতে মোবাইল , অনেকে ব্যস্ত সেলফি তোলায় কিংবা কেউ কেউ আছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক লাইভে। জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের কক্ষে কিংবা হাসপাতালে ভর্তি রোগীর আত্মীয়স্বজনদের রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরাও যখন এমপিকে নিয়ে ব্যস্ত, তখন নিয়মিত চিকিৎসাসেবা থেমে যায়। এসময় অনেক অসুস্থ রোগীরা বাইরে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া এক রোগীর ভাই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,নবনির্বাচিত এমপি সাহেব হাসপাতাল পরিদর্শন করতে আসায় সাধুবাদ জানাই, কিন্তু হাসপাতাল হলো সেনসেটিভ জায়গা, এসব জায়গায় অনেক নিয়ম মেনে চলতে হয়। কিন্তু আমার কাছে মনে হচ্ছে এটা যেন কোন রাজনৈতিক জনসভা। ভর্তি থাকা রোগীদের কষ্টের দিকে কারও নজর নেই। এভাবে দলবলসহ হাসপাতালে আসা কখনো উচিত নই। চিকিৎসারত রোগীদের ওয়ার্ডে দলবল নিয়ে গিয়ে সেলফি ও ছবি তোলা কোন সচেতন লোকের কাছে কখনোই কাম্য নই। এই ক্ষেত্রে সাংসদকে আরো সচেতন হওয়া উচিত ছিল।
হাসপাতালের মত এমন একটি সংবেদনশীল জায়গায় এত লোকজন নিয়ে সাংসদের পরিদর্শন এর বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, এটা নিয়ে আমার তো কিছুই করার নেই।এত ভিড়ে অসুবিধা হওয়াটাই স্বাভাবিক। রুগীদের অসুবিধা হলেও মেনে নেওয়া ছাড়া আর কিছু করার নাই। মাননীয় সাংসদ এই হাসপাতালে কী কী সমস্যা আছে তার নোট দিতে বলেছেন।