রাধা-গোবিন্দের আরাধনায় অন্নভোগ বিতরণ ভক্তির আবেশে মুখরিত গোয়ালবাটী গ্রাম

প্রকাশিত: ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬

তরুণ বিশ্বাস,কলকাতা-

ভক্তি,আনন্দ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য পরিবেশে অনুষ্ঠিত হল অষ্টম প্রহর হরিনাম সংকীর্তন ও অন্নভোগ বিতরণ অনুষ্ঠান। গোয়ালবাটী নাট মন্দির উন্নয়ন সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গ্রামবাসীদের ঢল নামায় কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয় সমগ্র এলাকা।
সকালের মঙ্গলধ্বনি ও শঙ্খনাদের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পূজা-অর্চনা। রাধা-গোবিন্দের আরতি চলাকালীন মন্দির প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক আবহ। কীর্তনের তালে তালে ছোটদের উচ্ছ্বাস, যুবসমাজের অংশগ্রহণ এবং প্রবীণদের ভক্তিমগ্ন উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।স্থানীয় কীর্তন দলের সুমধুর হরিনাম সংকীর্তনে মন্দির চত্বর ভরে ওঠে।“হরি বল” ধ্বনিতে চারদিক অনুরণিত হয়। পোলাপানদের ছন্দময় নৃত্য ও ভক্তদের আবেগঘন অংশগ্রহণে এক সময় পুরো পরিবেশ ভক্তির সাগরে ভেসে যায়। অনেকেই বলেন,এই ধরনের অনুষ্ঠান গ্রামের সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। পূজা ও কীর্তন শেষে আয়োজন করা হয় মহাপ্রসাদের অন্নভোগ বিতরণ। শত শত ভক্ত ও গ্রামবাসী শৃঙ্খলাবদ্ধ ভাবে প্রসাদ গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সকলের জন্য সমানভাবে প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যাতে কেউ বঞ্চিত না হন। এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুধুমাত্র পূজা বা কীর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি—এটি হয়ে ওঠে মিলনমেলা। বিভিন্ন বয়স,পেশা ও সামাজিক স্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে ভক্তি ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। গ্রামের মানুষের মধ্যে ভক্তি, ঐক্য ও সংস্কৃতির চর্চা বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে করা হবে।”অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই বলেন,এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় নয়, এটি গ্রামীণ ঐতিহ্য ও পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুন করে জীবন্ত করে তোলে। শিশুদের অংশগ্রহণ বিশেষভাবে সকলের নজর কাড়ে।সার্বিকভাবে, গোয়ালবাটীর এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান ভক্তি, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে রইল রাধা-গোবিন্দের আরাধনা, হরিনামের ধ্বনি এবং অন্নভোগের মাধ্যমে একদিনের জন্য হলেও গ্রামবাসীরা যেন ভুলে গিয়েছিলেন দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা—ডুবে ছিলেন নির্মল আধ্যাত্মিক আনন্দে।