নিজের দক্ষতায় সামনে এগিয়ে চলেছেন রোকসানা নিহা

প্রকাশিত: ১০:২০ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬

মো আবদুল করিম সোহাগ-ঢাকা

পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস আর দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে নিজস্ব একটি পরিচয় গড়ে তুলেছেন নারী উদ্যোক্তা রোকসানা নিহা। শিক্ষা, সৃজনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধকে একসঙ্গে ধারণ করে তিনি ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন একজন সফল উদ্যোক্তা, মেকআপ আর্টিস্ট ও সমাজসেবক হিসেবে।

ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে পলিটিক্যাল সায়েন্সে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর রোকসানা নিহা নিজেকে কেবল একাডেমিক ডিগ্রির গণ্ডিতে আবদ্ধ রাখেননি। নিজের আগ্রহ, সৃজনশীলতা ও দক্ষতাকে পেশায় রূপ দিয়ে তিনি শুরু করেন ভিন্ন এক যাত্রা। সেই যাত্রারই ফল তার প্রতিষ্ঠিত ফ্যাশন ব্র্যান্ড “মালিয়াত ফ্যাশন”। এই ব্র্যান্ড তার কাছে শুধু পোশাকের নাম নয়; বরং নারীর আত্মবিশ্বাস, রুচি ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশের একটি মাধ্যম।

একই সঙ্গে রোকসানা নিহা একজন ইন্টারন্যাশনাল সার্টিফাইড মেকআপ অ্যান্ড হেয়ার এক্সপার্ট। তার কাছে সৌন্দর্য মানে কেবল বাহ্যিক সাজ নয়, বরং মানুষের ভেতরের আত্মবিশ্বাসকে তুলে আনার একটি শিল্প।
“Beauty Canvas by Niha” নামের পেইজে সৌন্দর্যচর্চা ও রূপসজ্জার শিল্পকে সৃজনশীলভাবে তুলে ধরি, যেখানে প্রতিটি কাজ আমার শিল্পীসত্তার প্রকাশ।কাজের মান ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংগঠন থেকে সম্মাননাও পেয়েছে টিমটি।

ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ববোধও রোকসানা নিহার পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন “মালিয়াত ফাউন্ডেশন”। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ছোট পরিসরে সহায়তা প্রদান এবং সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে ফাউন্ডেশনটি ধীরে ধীরে একটি মানবিক প্ল্যাটফর্মে রূপ নিয়েছে। তার বিশ্বাস, প্রকৃত সৌন্দর্য মানুষের মানবিক আচরণেই প্রকাশ পায়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আশাবাদী রোকসানা নিহা। তিনি চান মালিয়াত ফাউন্ডেশন দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পরিচিত হোক। একই সঙ্গে তিনি নিজের কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চান, একজন নারী চাইলে একই সঙ্গে উদ্যোক্তা, শিল্পী ও সমাজসেবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।

রোকসানা নিহার এই পথচলা কেবল একজন মেকআপ এক্সপার্ট বা ব্যবসায়ীর গল্প নয়। এটি একজন আত্মনির্ভরশীল নারীর গল্প, যিনি সৌন্দর্য, সৃজনশীলতা ও মানবিকতাকে একসাথে ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার গল্প আগামী দিনে আরও অনেক নারীর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে বলেই বিশ্বাস।