নির্বাচনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত সেনাবাহিনী, বান্দরবান জোন কমান্ডার

প্রকাশিত: ১:২৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬

দীপংকর মল্লিক, বান্দরবান প্রতিনিধি

দীর্ঘ সময়ের পর উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের মাঝে বিরাজ করছে নানা ভাবনাচিন্তা! নির্বাচন নিয়ে নানা আয়োজনে মধ্যে আনন্দ উল্লাসের পাশাপাশি কিছুটা আতংক ও বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মাঝে। তবে এই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের সহিংসতা, নাশকতা কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে।

আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বান্দরবান জোনের আয়োজনে ‘সেনা মোতায়েন ব্রিফিং’-এ এসব কথা বলেন বান্দরবান সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ হুমায়ুন রশীদ।

ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে ইতোমধ্যে কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, নির্বাচনসংশ্লিষ্ট অবকাঠামো এবং ভোটকেন্দ্রগুলোতে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে।’
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের সহিংসতা, নাশকতা কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে।
জোন কমান্ডার আশ্বস্ত করেন যে, ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন এবং নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবে। তিনি জানান, ৩০০ নম্বর বান্দরবান সংসদীয় নির্বাচনী এলাকায় সেনাবাহিনীর ৪৫০ জন, বিজিবির ১০০ জন এবং র‍্যাবের ৫০ জন সদস্য সার্বক্ষণিক মাঠে সক্রিয় থাকবেন।

ব্রিফিং শেষে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‍্যাবের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর সদস্যরা জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সতর্কতামূলক মহড়া পরিচালনা করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী কাজ করবে। ইতোমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে নিরাপত্তা বাহিনী।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে— কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে শান্ত ও শৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতা করুন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার জন্য পুনরায় অনুরোধ জানানো হয়েছে।