বর্তমানে বিএনপির দেশ পরিচালনার কোনো সামর্থ্য নেই : আনোয়ারায় কর্নেল অলি

প্রকাশিত: ৮:১১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

‎লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন এবং দীর্ঘদিন দলটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে যখন তিনি বুঝতে পারেন যে বিএনপি আর বেশিদিন টিকবে না এবং তাদের ‘চিকিৎসা দরকার’, তখনই তিনি দলটি ত্যাগ করেন।
‎তিনি বলেন, বর্তমানে বিএনপির দেশ পরিচালনার কোনো সামর্থ্য নেই। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তারা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি করবে, চট্টগ্রাম বন্দর দখল করবে এবং ব্যাংক লুট করবে।
‎শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. কর্নেল অলি।
‎১১ দলীয় জোটের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রসঙ্গে কর্নেল অলি বলেন, অনেকেই বলে ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে নারীদের স্বাধীনতা হরণ করা হবে এবং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ধর্ম পালনে বাধা দেওয়া হবে। তিনি এ অভিযোগ নাকচ করে বলেন, কারও ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় তারা হস্তক্ষেপ করবেন না। বরং যারা নিজেদের ধর্ম ঠিকমতো পালন করে না, তারাই অন্যের ধর্মে হস্তক্ষেপ করে।
‎নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১২ তারিখ পর্যন্ত যা করার করে ফেলেন। ১২ তারিখ এ দেশের জনগণ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে আপনাদের ভাতের হোটেল বন্ধ করে দেবে।’
‎সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা আনোয়ারা হলেও সে অনুযায়ী এখানে উন্নয়ন হয়নি। কারখানা স্থাপিত হলেও শিক্ষিত মানুষ কর্মসংস্থান পাচ্ছে না। নারীদের জন্য সরকারি স্কুল ও মাদ্রাসা নেই। যুবকদের বিভিন্ন পেশায় প্রশিক্ষিত করে বিদেশে পাঠানোর জন্য কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও নেই। তিনি বলেন, এই আসনে দাঁড়িপাল্লার বিজয় হলে এসব পরিকল্পনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।
‎সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জুবায়েরুল আলম মানিক বলেন, যারা সংস্কারের কথা না বলে ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে, জনগণ ৩৬ জুলাইয়ের পর যেমন আওয়ামী লীগকে লাল কার্ড দেখিয়েছে, তেমনি ১২ তারিখে তাদেরও লাল কার্ড দেখাবে।
‎দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মাওলানা ইসমাঈল হক্কানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে যৌথ সঞ্চালনা করেন আনোয়ারা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবুল হাসান খোকা ও কর্ণফুলী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি নুরউদ্দীন জাহাঙ্গীর।
‎সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক, নেজামে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরের আমীর মাওলানা জিয়াউল হুসেইন জিয়া, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা খেলাফত মজলিসের আমীর হাফেজ মাহবুবুর রহমান হানিফ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি জুনু মিয়া, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক মুহাম্মদ ইব্রাহিম, চট্টগ্রাম পশ্চিম জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুর রহিম, খেলাফত মজলিস আনোয়ারা উপজেলার সভাপতি মাওলানা মুফতি ইমরান ইসলামাবাদীসহ ১১ দলীয় জোটের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।