মঈন আলীর ঝড় তোলা রানে ঢাকাকে হারিয়ে সিলেটের জয়

প্রকাশিত: ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০২৬

উৎফল বড়ুয়া, ব্যুরো প্রধান, সিলেট

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার দিনের দ্বিতীয় খেলায় টসে জিতে আগে সিলেটকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ঢাকা ক্যাপিটালস। ব্যাট করতে নেমে ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনের ব্যাটে চড়ে ভালো শুরু পায় সিলেট। ৬ ওভারের পাওয়ারপ্লে শেষে বিনা উইকেটে ৪৮ রান তুলে ফেলে সিলেট টাইটান্স।

পাওয়ারপ্লে শেষে ভাঙে ওপেনিং জুটি। বিদায় নিয়েছেন তাওফিক খান। ২১ বলে ১৭ রান করেন তিনি। পরের ওভারে থেমেছেন দারুণ খেলতে থাকা ইমনও। ২৪ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন তিনি। চারে নামা আফিফ হোসেন ধ্রুব খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। ৯ বলে ৬ রান করে বিদায় নেন তিনি।

আফিফের বিদায়ের পর ক্রিজে জুটি বাঁধেন আরিফুল ইসলাম এবং আজমতউল্লাহ ওমরজাই। দুজনের কার্যকরী ব্যাটিংয়ে এগিয়েছে সিলেটের ইনিংস। একই ওভারে ফিরেছেন দুজন। ২৯ বলে ৩৮ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন আরিফুল। অন্যদিকে ওমরজাই ২৩ বলে ৩৩ রানের ক্যামিও খেলেন।

শেষ দিকে ঝড় তোলেন সিলেটের জামাই মঈন আলী। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে ১৯তম ওভার থেকে মঈন নিয়ে ফেলেন ২৮ রান। শেষ ওভারে ৮ বলে ২৮ রান করা মঈন আউট হন। তবে ইথান ব্রুকস এবং মেহেদী হাসান মিরাজের তাণ্ডবে বড় সংগ্রহ তুলে ফেলে সিলেট টাইটান্স। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রান তোলে সিলেট। শেষ ওভারে এসেছে ১৮০ রান। ২ বলে ৭ রান করে টিকে ছিলেন মিরাজ। ৪ বলে ৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন ব্রুকস।

ঢাকার হয়ে ৩ উইকেট নেন জিয়াউর রহমান। ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন নাসির হোসেন, সাইফ হাসান এবং ইমাদ ওয়াসিম।

জবাব দিতে নেমে রহমানউল্লাহ গুরবাজ এবং আব্দুল্লাহ আল মামুনের ব্যাটে ভর করে দারুণ শুরু পায় ঢাকা ক্যাপিটালস। বেশি আগ্রাসী ছিলেন মামুন। পাওয়ারপ্লের ফায়দা লুটে তুলেছেন রান। ওপেনিং জুটি থেকে চলে আসে ৫৬ রান। ১১ বলে ২৪ রান করে বিদায় নেন মামুন। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৫৭ রান নেয় সিলেট।

শুরুটা ভালো হলেও জয়ের দেখা পায়নি ঢাকা।
তিনে নেমে এদিন সুবিধা করতে পারেননি আগের ম্যাচে ঢাকার জয়ের নায়ক নাসির হোসেন। ৭ বলে ৩ রান করে বিদায় নেন নাসির। চারে নামা শামীম হোসেন পাটোয়ারীও সুবিধা করতে পারেননি। ৪ বলে ১ রান করে বিদায় নিয়েছেন শামীম। এরপর ক্রিজে আসেন সাইফ হাসান। গুরবাজের সাথে জুটি বেঁধে এগিয়েছেন সাইফ। কিছুটা উজ্জ্বল মনে হচ্ছিল সাইফকে।

গুরবাজ এগিয়েছেন ধীর ব্যাটিংয়ে। ফিফটি ছুঁয়েছেন। তবে সেই ফিফটি কতটা দলের কাজে লেগেছে তা নিয়ে শঙ্কা আছে। ৪৪ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান গুরবাজ।

গুরবাজের বিদায়ের পর থেকে ধুঁকেছে ঢাকা। নিয়মিত বিরতিতে একের পর এক উইকেট তুলে ঢাকাকে চাপে রাখেন সিলেটের বোলাররা। মাঝে সাইফ হাসান ১৪ বলে ২২ রান করেছেন। ইমাদ ওয়াসিম ৮ বলে করেন ১২ রান।

শেষ দিকে সাব্বির রহমানের ১৬ বলে ২৫ রানের হার না মানা ইনিংসে ঢাকার হারের ব্যবধান কমেছে। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ১৬০ রান তুলে থেমেছে ঢাকা। ২০ রানে জয়লাভ করেছে সিলেট।

সিলেটের হয়ে ৩ উইকেট নেন সালমান ইরশাদ। ২ উইকেট নিয়েছেন মঈন আলী। ১টি করে উইকেট তুলেছেন রুয়েল মিয়াহ, আজমতউল্লাহ ওমরজাই এবং নাসুম আহমেদ।

দিনের প্রথম খেলায় নোয়াখালীকে হারিয়ে রাজশাহী ৪ উইকেট জয়লাভ করেন।