চন্দনাইশ–সাতকানিয়ায় আলু চাষে ব্যস্ত কৃষকরা ৪২০ হেক্টরের ৮০% জমিতে বীজ বপন সম্পন্ন

প্রকাশিত: ১০:১১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২৫

নুহসিল মুস্তফা জাহাঙ্গীর -চন্দনাইশ প্রতিনিধি:

চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ায় শীতের শুরুতেই আলু চাষে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে মাঠে। অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা পুরোদমে আলুর বীজ বপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে চন্দনাইশে ৪২০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশ জমিতে ইতোমধ্যে বীজ বপন সম্পন্ন হয়েছে।

দোহাজারী, হাছানদন্ডী, চাগাচর, বৈলতলী চর ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় আলু রোপণে এখন যেন উৎসবের আমেজ। সাতকানিয়ার খাগরিয়া, নলুয়া, চরতি ও আমিলাইশ এলাকাতেও আলু চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ মৌসুমে আলুর ফলন প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।

হাছানদন্ডীর বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, তাদের ক্ষেতের প্রায় ৮০ শতাংশ জমিতে বীজ বপন শেষ হয়েছে। জমি তৈরিসহ আলু রোপণে কৃষকদের ব্যয়ও নেহাত কম নয়। অনেকেই দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে চাষাবাদ করছেন।

কয়েকজন কৃষকদের কাছ থেকে মতামত নিলে জানা যায়, মাত্র ২-৪ বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে খাজনাসহ প্রায় আড়াই থেকে তিন লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়েছে তাদের। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান বিভিন্ন এরিয়ার কৃষকগণ।

কৃষকের অভিযোগ—সরকারিভাবে তারা কোনো প্রশিক্ষণ পান না, পাচ্ছেন না কৃষিঋণ সুবিধাও। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে ভাইরাস আক্রমণে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তখন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিলেও পর্যাপ্ত সহায়তা মেলে না।

চন্দনাইশে তিনটি হিমাগার থাকায় স্থানীয়ভাবে বীজ সংগ্রহে সুবিধা হচ্ছে। কৃষকেরা জানান, হিমাগার থেকে অঙ্কুরিত বীজ কেজিপ্রতি ৪০ টাকা ও অঙ্কুরহীন বীজ ৩০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ২ শতক জমিতে ৬ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়।

হিমাগারে সংরক্ষিত এসব আলুই সারাবছর স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নুহ/ চন্দ