ফটিকছড়ির একটি বিদ্যালয়ে পাস করেনি কেউ

প্রকাশিত: ১২:২৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২৫

নয়ন কুমার নাথ – ফটিকছড়ি প্রতিনিধি 

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নারায়নহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবারের এস.এস.সি পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে বিদ্যালয়টি। তবে ২০২৫ এ অনুষ্ঠিত এস.এস.সি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে অংশগ্রহণ করেছেও মাত্র দু’জন শিক্ষার্থী।

ফটিকছড়ি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৫৯টি বিদ্যালয় এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে শিক্ষার্থী সংখ্যায় সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠান নারায়ণহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে কথা হয় বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শওকত হোসেন সিকদারের সাথে। তিনি বলেন, এই স্কুল ২৫ বছর ধরে এমপিও ছাড়া চলছে। এবার মাত্র দু’জন পরীক্ষা দিয়েছে। তাদের ফরম পূরণের টাকা পর্যন্ত আমি দিয়েছি। কেউ পাস না করাটা দুঃখজনক। তবে এখানে যারা পড়ে, তারা খুবই অসহায় পরিবার থেকে আসে।

তাঁর দাবি, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১৭০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এবং ৭ জন শিক্ষক আছেন।

তিনি আরও বলেন, এটি একটি বালিকা বিদ্যালয়। আশেপাশে যারা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারে না, তারাই এখানে ভর্তি হয়।

তবে শিক্ষক সংখ্যা নিয়ে রয়েছে ভিন্নমত। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম বলেন, ‘কেউ পাস না করাটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমি কয়েকবার বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি। কয়েকজন শিক্ষার্থী দেখলেও সেখানে তেমন শিক্ষক নেই। প্রায় ৭০ বছর বয়সী একজন প্রধান শিক্ষক দায়িত্বে আছেন। দু’জন পিয়ন ও কর্মচারী রয়েছেন। তবে সাতজন শিক্ষক রয়েছেন, এমন তথ্য সঠিক নয়। সম্ভবত এমপিও আবেদন করার জন্য কাগজে-কলমে সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানো হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। নন-এমপিও বিদ্যালয় হলেও তারা সরকারী বই পায়। শিক্ষক থাকার পরও দুজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে, দুজনই ফেল করেছে। প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রথম/ নয়ন/ ফটিক