উৎফল বড়ুয়া, ব্যুরো প্রধান, সিলেট
হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বুধবার ২৪ জুন সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, “সারওয়ার আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন।” মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, মাজারের দানের অর্থ প্রকাশ্যে গণনার মতো উদ্যোগ স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মাজার ব্যবস্থাপনার অনেক বাস্তবতা সামনে নিয়ে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, মাজারের আয়-ব্যয় ও দান ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অস্বচ্ছতার সুযোগ রাখা হবে না। সিলেটের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, মাজার সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা হবে।
সাবেক ডিসি সারওয়ার আলমের বদলি প্রসঙ্গে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বদলি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং এটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের রুটিন কার্যক্রমের অংশ।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ডেগ সিলগালা করা এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন দানবাক্স স্থাপনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে দানবাক্স খুলে গণনা করে প্রায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়।
এ ঘটনার মধ্যেই জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। তার বদলির প্রতিবাদে সিলেটে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখন মন্ত্রীর এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।