---তরুণ বিশ্বাস,কলকাতা---
একজন অসহায় বৃদ্ধের মৃত্যুকে ঘিরে আজ ক্ষোভ, বেদনা ও প্রশ্নে উত্তাল সাধারণ মানুষ। চিকিৎসার আশায় হাসপাতালের দ্বারস্থ হয়েও যদি একজন রক্তাক্ত মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা না পান, তবে সেই মৃত্যুর দায় কার? মানবিকতা,নাকি অর্থের নির্মম হিসাব কোনটি আজ বড় হয়ে উঠেছে ? অভিযোগ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা সেরে বাড়ি ফিরছিলেন এক বৃদ্ধ। ফেরার পথে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁর হাঁটুতে একটি লোহার রডের আঘাত লাগে। শুরু হয় প্রবল রক্তক্ষরণ। যন্ত্রণায় ও আতঙ্কে তিনি প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়েন।
সেই সংকটময় মুহূর্তে এক মানবিক অটো চালক নিজের দায়িত্ব বোধ থেকে বৃদ্ধকে দ্রুত নিয়ে যান Kasturi Das Memorial Superspeciality Hospital-এ। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, সেখানে আহত বৃদ্ধকে জরুরি চিকিৎসা না দিয়ে আর্থিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় এবং কার্যত ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অভি যোগের সত্যতা অবশ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃ পক্ষের বক্তব্য ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
সময় তখন দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। তবুও হাল ছাড়েননি সেই অটোচালক। এক ফোঁটা মানবিকতার তাগিদে তিনি আবারও বৃদ্ধকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অবিরাম রক্ত ক্ষরণে দুর্বল হয়ে পড়া বৃদ্ধ শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানেন। হাসপাতালের দরজায় পৌঁছানোর আগেই নিভে যায় তাঁর জীবনের প্রদীপ।খবর পেয়ে ছুটে আসেন মৃত বৃদ্ধের ছেলে, যিনি কলকাতা পুলিশের ফোর্থ ডিভিশনে কর্মরত। কিন্তু তখন আর কিছুই করার ছিল না। বাবার মুখে শেষবারের মতো জল তুলে দেওয়ার সুযোগও হয়নি তাঁর। চোখের সামনে শুধু পড়ে ছিল বাবার নিথর দেহ।
আজ সেই ছেলে বুকভরা যন্ত্রণা নিয়ে কলকাতা থেকে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। কর্মরত পুলিশকর্মীর কাঁধে আজ কর্তব্যের নয়, পিতৃহারা সন্তানের অসহনীয় শোকের ভার। অ্যাম্বুলেন্সে শুয়ে থাকা বাবার নিথর দেহ যেন প্রতিটি মুহূর্তে তাঁকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে“আর একটু মানবিকতা কি আমাকে বাঁচাতে পারত না?”এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, জরুরি অবস্থায় একজন রক্তাক্ত মানুষকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া কি হাসপাতালের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব নয়? যদি অর্থের অভাব একজন মানুষের চিকিৎসার অধিকার কেড়ে নেয়,তবে সমাজ কোন পথে এগোচ্ছে?
আজ একটি পরিবার তাদের প্রিয় মানুষটিকে হারিয়েছে। একজন ছেলে বাবার নিথর দেহ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। কিন্তু এই মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ব্যক্তিগত শোক নয়—এটি আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা,মানবিকতা এবং সামাজিক বিবেকের সামনে এক কঠিন প্রশ্নচিহ্ন।“মানুষের জীবন কি সত্যিই অর্থের চেয়ে সস্তা?”ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্য উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনে দায়ী দের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন মহল। কারণ আজকের এই মৃত্যু যদি আমাদের বিবেককে না নাড়ায়,তবে আগামী কাল এমন পরিণতি কারও জন্যই অপেক্ষা করে থাকতে পারে।