সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রেসক্লাব কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক

প্রকাশিত: ৫:২০ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৮, ২০২৬

তরুণ বিশ্বাস,কলকাতা-

একসঙ্গে স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার জয়, ৬৭ বছরের মহিলার লড়াইয়ে আশার বার্তা ডায়াবেটিস- থাইরয়েডসহ একাধিক শারীরিক সমস্যার মধ্যেও বিরল দুই ক্যান্সারকে হারালেন প্রবীণ মহিলা।সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার সেন্টার এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে তিন বছরের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের পর সম্পূর্ণ সুস্থ—আধুনিক চিকিৎসা ও জেনেটিক পরীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরল এই ঘটনা।একই সঙ্গে স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েও সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার সেন্টার এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় অবিশ্বাস্য ভাবে সুস্থ হয়ে উঠলেন ৬৭ বছরের এক মহিলা। ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো একাধিক জটিলতা থাকা সত্ত্বেও তাঁর এই লড়াই চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
২০২১ সালের নভেম্বর মাসে ডান স্তনে গাঁট ও পেটে অস্বাভাবিক ফোলা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান তিনি। পরীক্ষায় ধরা পড়ে ট্রিপল নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সার,যা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক,পাশাপাশি উন্নত পর্যায়ের ওভেরিয়ান ক্যান্সারও শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। দুই ক্যান্সার একসঙ্গে ধরা পড়ায় জেনেটিক কারণ সন্দেহ করা হয় এবং পরীক্ষায় BRCA2 মিউটেশন ধরা পড়ে।
এরপর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসার পথচলা। প্রথমে কেমোথেরাপির মাধ্যমে টিউমার ছোট করা হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বড় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুই স্তনই অপসারণ করা হয়, যার মধ্যে একটি ছিল প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। অস্ত্রোপচারের পর রিপোর্টে ব্রেস্ট ক্যান্সারে সম্পূর্ণ সাড়া পাওয়া যায়। পরবর্তীতে আরও কেমোথেরাপি দেওয়া হয় এবং জুন ২০২২-এ জরায়ু, ডিম্বাশয় ও আক্রান্ত টিস্যু অপসারণের জন্য দ্বিতীয় বড় অস্ত্রোপচার হয়। জেনেটিক রিপোর্টের ভিত্তিতে লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা হিসেবে ওলাপারিব দেওয়া শুরু হয়। চিকিৎসার ফলাফলও ছিল আশা ব্যঞ্জক।সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার সেন্টার এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকদের মতে,এই ঘটনা প্রমাণ করে যে উন্নত পর্যায়ের ক্যান্সার হলেও সময়মতো নির্ণয়, সমন্বিত চিকিৎসা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ থাকলে সুস্থ হওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে জেনেটিক পরীক্ষা অঞ্জন গুপ্তের বক্তব্য এই অসাধারণ সুস্থতা আমাদের সমন্বিত ক্যানসার চিকিৎসা ব্যবস্থার শক্তি এবং রোগীর মানসিক দৃঢ়তারই প্রতিফলন।ডা.অর্ণব গুপ্তের এই ঘটনাটি অনকোলজিতে প্রিসিশন মেডিসিনের গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।