শাবিপ্রবিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস উদযাপন প্রকাশিত: ৮:৫৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ উৎফল বড়ুয়া, ব্যুরো প্রধান, সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও জাতীয় শহীদ দিবস উদযাপন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রশাসনিক ভবন- ১ এর সামনে সকাল ৯টা ৪৫মিনিটে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম। এর পূর্বে ভাষা শহীদদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সকলেই কালো ব্যাচ ধারণ করেন। পরবর্তীতে সকাল ১০টায় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী। এসময় পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, শিক্ষক সমিতি, হল প্রশাসন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠন,শাবি প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। পরবর্তীতে সকাল ১১টায় মিনি অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও জাতীয় শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও জাতীয় শহীদ দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি স্কুল অব ফিজিক্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক মো. আহমদ কবির চৌধুরী সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রভাষা বাংলাকে সর্বস্তরে প্রয়োগের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভাষা চর্চা শুধু একটি নির্দিষ্ট দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং বাংলা ভাষাকে আরও সমৃদ্ধ ও এগিয়ে নিতে আমাদের নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাকে এগিয়ে নিতে হলে দেশের অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করতে হবে। এ সময় তিনি ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বীর শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম বলেন, ভাষা মহান আল্লাহ তাআলার দান। তৎকালীন সরকার উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিয়েছিল, যা ছিল চরম অন্যায় ও নিপীড়ন। তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ কখনও কোনো কিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়া গ্রহণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। ভাষার জন্য যাঁরা আন্দোলন করেছেন, তাঁরা আমাদের গর্বিত সন্তান। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে, যা ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, তৎকালীন তরুণদের অসামান্য অবদানের ফলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি লাভ করেছে। ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির আদান-প্রদান ঘটে। এই দিবস আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনেরও সূচনা করেছে। তিনি সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচারে যে স্থবিরতা রয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার আহ্বান জানান। আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কালাম আহমদ চৌধুরী। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব, বিভাগীয় প্রধান, হল প্রভোস্ট, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। News PhotoCard SHARES সারা বাংলা বিষয়: