লামায় পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ৫০ বছরের বসতভিটা দখলের অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন

প্রকাশিত: ৬:১৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬

মাসুদ পারভেজ

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বড় ছনখোলা এলাকায় পৈতৃক চার একর জমি নিয়ে দুই বোনের পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে বসবাসরত একটি পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আব্দুর শুক্কুরের মৃত্যুর পর তার চার মেয়ের মধ্যে চার একর জমি সমানভাবে বণ্টন করা হয়। প্রত্যেক মেয়ে এক একর করে জমি পান। তাদের মধ্যে মনোয়ারা বেগম তার অংশের জমিতে বসতঘর নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন।মনোয়ারা বেগমের মৃত্যুর পর তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে বর্তমানে ওই জমিতে বসবাস করছেন। এলাকাবাসীর দাবি, প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে তারা সেখানে বসবাস করে আসছেন।
মনোয়ারা বেগমের মৃত্যুর পর তার বোন শামসুন্নাহার ওই জমির মালিকানা দাবি করেন। তিনি জানান, ছেনোয়ারা বেগম নামের এক নারীর কাছ থেকে তিনি জমিটি ক্রয় করেছেন এবং বৈধ কাগজপত্র রয়েছে।
তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে স্থানীয়দের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র উঠে আসে। গ্রামের সর্দার মনির আহমেদ ও আবুল কাশেম বলেন, “মৃত আব্দুর শুক্কুর জীবদ্দশায় চার মেয়ের মধ্যে সমান ভাগে জমি বণ্টন হয়। মনোয়ারা বেগম তার অংশের জমির বৈধ মালিক ছিলেন। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে তাদের পরিবার সেখানে বসবাস করছে। হঠাৎ করে এখন দাবি তোলা হয়েছে।


স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি জমিটি ছেনোয়ারা বেগমের হয়ে থাকে, তবে তিনি কীভাবে মালিকানা পেলেন? তার নাম কীভাবে রেকর্ডে এলো?
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মনোয়ারা বেগমের বসতভিটা দখল করে তার সন্তানদের উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে শামসুন্নাহার বলেন, “আমি বৈধভাবে জমি ক্রয় করেছি। এটি আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি।
এই বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মইন উদ্দিন জানান, মনোয়ারা বেগমের ছেলে মনোর আলম তার খালা শামসুন্নাহারকে বিবাদী করে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এলাকাবাসী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। জমি সংক্রান্ত বিরোধ যেন বড় ধরনের সংঘাতে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেছেন তারা।